ADS
বাংলাদেশের রাজনীতি একটি সংসদীয় গণতন্ত্র, যা ১৯৭২ সালের সংবিধানের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, যেখানে প্রধানত দুই দলীয় আধিপত্য (আওয়ামী লীগ ও বিএনপি) বিদ্যমান। এটি ১৯৯১ সালে সামরিক শাসনের পর থেকে সংসদীয় ধারা পুনরুদ্ধার করে এবং চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক, নির্বাচন-কেন্দ্রিক ও সংঘাতময় রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য পরিচিত, যা মাঝে মাঝে স্থিতিশীলতাকে ব্যাহত করে [৬, ৭, ৮]।
বাংলাদেশের রাজনীতির মূল দিকগুলো:
- সংবিধান ও শাসনব্যবস্থা: বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা সংসদীয় পদ্ধতির, যা সংবিধানের মাধ্যমে পরিচালিত হয় [৭]। জাতীয় সংসদ ৩৫০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত, যার মধ্যে ৩০০ জন সরাসরি ভোটে এবং ৫০ জন নারী সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত হন [৫]।
- প্রধান রাজনৈতিক দলসমূহ: বাংলাদেশে বহু দলীয় ব্যবস্থা থাকলেও, রাজনৈতিক দৃশ্যপট মূলত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বে আবর্তিত হয় [৬, ৮]। এছাড়া জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীর মতো অন্যান্য দলও রয়েছে [২]।
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের উদ্ভব এবং পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালের ৬-দফা আন্দোলনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কাঠামো নির্ধারিত হয় [৪]।
- রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও সংঘাত: প্রধান দলগুলোর মধ্যে সংঘাতময় সম্পর্কের কারণে নীতি নির্ধারণে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে [৬]। নির্বাচনী ব্যবস্থা ও ক্ষমতার লড়াইয়ের কারণে রাজনৈতিক সহিংসতা এবং বিরোধী দলগুলোকে প্রান্তিক করার প্রবণতা দেখা যায় [৬, ৮]।
- গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার: ১৯৯১ সালে সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা হয়েছিল [৭, ৮]।
- নির্বাচন কমিশন: নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন কমিশনের অধীনে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে, যেমন- আওয়ামী লীগ, বিএনপি, এলডিপি, ইত্যাদি [২]।
এই রাজনৈতিক কাঠামো সংঘাতপূর্ণ হলেও, এটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো মজবুত করার জন্য নিয়মিত নির্বাচন ও গণভোটের ওপর নির্ভরশীল [৭, ৮]।
Comments
Post a Comment